ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার নিয়ম



ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার নিয়ম খুব একটা কঠিন না। ফেসবুক একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফরম, যেটা আমরা প্রায় সবাই ব্যাবহার করি। কিন্তু এর ব্যাবহার আমাদের মধ্যে অতিরিক্ত ঢুকে পড়েছে। 
ফেসবুক-আইডি-ডিএক্টিভ-করার-নিয়ম
এই লেখায় আমরা দেখব ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার নিয়ম। ফেসবুক ডিএক্টিভ করার অপশনটা এক দিক দিয়ে খুব ভালো একটি ফিচার। কারণ আমরা ফেসবুকে অনেক বেশি এডিক্টেড হয়ে পড়ি। আর এই ফিচার আমাদেরকে কিছুদিনের জন্য সবকিছু থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে। 

পেজ সূচিপত্রঃ ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার নিয়ম

ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করা বলতে কী বোঝায়

ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার নিয়ম আমরা জানবো কিভাবে ফেসবুক ডিএক্টিভ করতে হয়।সাধারণত ফেসবুক ডিএক্টিভ বলতে কিছুদিনের জন্য ফেসবুক থেকে বিরতি নেওয়া। এতে আপনার প্রোফাইল, পোস্ট অন্য মানুষের থেকে হাইড থাকে। কিন্তু সকল প্রকার ডাটা নিরাপদ থাকে। অনেক সময় আমরা অতিরিক্ত সময় ফেসবুকে দিয়ে থাকি, তাই একপর্যায়ে মনে হয় মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর ঠিক এই সময়ে অনেক মানুষ ফেসবুক ডিএক্টিভ করে দেয়। 

ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার আগে যা জানা জরুরী

ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার নিয়ম জানার আগে আমাদের কিছু জিনিস জানা উচিত। কোন একটি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তার ব্যাপারে পুরো ধারণা রাখা দরকার। ফেসবুক ডিএকটিভ করলে সাথে সাথে লগে করা যায় না এবং অন্যান্য অ্যাপ facebook এর সাথে যুক্ত করা যাবে না। তবে ফ্রেন্ডলিস্ট, পোস্ট ছবি ইত্যাদি নিরাপদ থাকবে। এছাড়া চাইলে মেসেঞ্জার লগইন করা যাবে।

মোবাইল দিয়ে ফেসবুক ডিএক্টিভ করার নিয়ম

মোবাইল দিয়ে ফেসবুক একাউন্ট ডিএকটিভ করার জন্য প্রথমে ফেসবুক অ্যাপ এ ঢুকে প্রোফাইল পিকচারের পাশে 
  • মেনু বারে ঢুকে পড়ুন। 
  • সেখান থেকে settings & privacy অপশনে যান। 
  • Settings & privacy অপশন থেকে Settings এ যান
  • তারপর Account center এ ক্লিক করুন
  • একাউন্ট সেন্টার থেকে Personal details অপশন নির্বাচন করুন
  • তারপর Account ownership And control এই জান
  • সেখানে গিয়ে Deactive Account এই ক্লিক করুন
  • তারপর Password দিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিএক্টিভ নিশ্চিত করুন
একাউন্ট ডিএক্টিভ করার সময় তারা কিছু কারণ জানতে চাইবে সেখানে অনেকগুলো অপশন রাখা থাকবে।

কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে আইডি ডিএকটিভ করার নিয়ম

কম্পিউটার থেকে ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করতে প্রথমে ব্রাউজারে ঢুকে নিজের ফেসবুক একাউন্ট লগইন করে নিতে হবে। ফেসবুক ডিএক্টিভ করতে কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ফোন সব জায়গায় একই রকম করে করা হয়। ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার নিয়ম উপরে মোবাইল দিয়ে ফেসবুক ডিএক্টিভ করার নিয়মে বলা রয়েছে। কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে একই রকম করে করতে হয়। কোন বিশেষ নেই।

ফেসবুক ডিএকটিভ করলে কি কি ডাটা অক্ষত থাকে

সাধারণত ফেসবুক ডিএক্টিভ বলতে ফেসবুক থেকে অল্প সময়ের জন্য বিরত নেওয়া কে বোঝায় এতে আইডিতে পোস্ট করা যাবতীয় ছবি ভিডিও কোন কিছুই ডিলিট হয় না সময় সাপেক্ষ এর জন্য এটি অন্যান্য মানুষের থেকে হাইড হয়ে থাকে। এবং সকল ডাটা সেভ থাকে। পুনরায় যখন ফেসবুকে লগইন করে ঢুকবেন তখন সকল ডাটা (ছবি, পোস্ট, ভিডিও) ইত্যাদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে।

ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ ও ডিলিট এর মধ্যে পার্থক্য

অনেক মানুষ ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ এবং ডিলিট একই ভাবে। তবে ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ বলতে কিছু সময়ের জন্য ফেসবুক থেকে কিংবা ফেসবুক ও মেসেঞ্জার দুটো থেকে বিরতি নেওয়া কে ফেসবুক ডিএকটিভ বলে। এখানে কোনরকম ডাটা পুরো আইডিতে যাবতীয় পোস্ট ছবি ভিডিও কোন কিছুই একেবারে হারাবে না যতদিন বিরতিতে থাকা হবে ততদিন অন্যান্য মানুষের কাছ থেকে আইডি সমস্ত কিছু হাইড থাকবে। যখন আবার ফেসবুক লগইন করা হবে তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সকল প্রকার ডাটা ফেরত পাওয়া যাবে। 

অপরদিকে ফেসবুক আইডি ডিলিট বলতে একেবারে ডিলিট করে দেওয়া। আর এই সময় যাবতীয় ডাটা সবকিছু ডিলিট হয়ে। যা আর কোন সময় ফেরত পাওয়া যাবে না। পরবর্তীতে নতুন করে আইডি খোলা লাগবে।

কতদিন পর্যন্ত ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ রাখা যায়

ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার নিয়ম সাধারণত ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করে রাখতে তার কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। আপনি চাইলে একদিন থেকে শুরু করে ১ সপ্তাহ, মা কিংবা অনেকদিন ইচ্ছা মতো ডিএকটিভ রাখতে পারেন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এতে কোন সময়সীমা বেঁধে দেয়নি। যখন ইচ্ছা করবে তখন আবার লগ ইন করে পুনরায় ব্যবহার করতে পারবেন। 

ডিএক্টিভ আইডি আবার কিভাবে একটিভ করবেন

ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার নিয়ম যেভাবে ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করা শেখানো হয়েছে তা পুনরায় আবার একটিভ করতে কোন ধরনের নানান স্ফটেপ ফলো করতে হয় না। খুব সহজেই একাউন্ট এক্টিভ করা যায়। ফেসবুকে ঢুকে ইমেইল বা ফোন নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করলে ফেসবুক আইডিটি একটিভ হয়ে যাবে। 

আইডি ডিএক্টিভ করলে মেসেঞ্জারে কি হয়

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিএক্টিভ করার সময় সব স্টেপগুলো ফলো করার একপর্যায়ে সেখানে একটি অপশন থাকে যেখানে বলা থাকে যে, ফেসবুক ডিএক্টিভ করার পরও কি আপনি মেসেঞ্জার ব্যবহার করতে চান কিনা। আপনি যদি চান, তাহলে সেটা অন করে দিতে পারেন। যার ফলে আপনার ফেসবুক ডিএকটিভ থাকলেও মেসেঞ্জারে মেসেজ পাঠানো ও গ্রহণ করা যাবে। অপরদিকে আপনি যদি মেসেঞ্জার বন্ধ করে রাখতে চান ফেসবুকের মতন তখন কোন ধরনের মেসেজ করা জাবেনা।

ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করা কি নিরাপদ 

ফেসবুক ডিএক্টিভ করা সম্পূর্ণ একটি নিরাপদ ফিচার। এর ফলে কোন ডাটা নষ্ট বা হারানোর ভয় নেই। যারা মানুষিক শিক, সময় নষ্ট বা প্রাইভেসি নিয়ে চিন্তিত তাদের জন্য এটি অনেক উপকারী। ফেসবুক নিজে ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফিচার রেখেছে। এতে আপনার একাউন্টের কোন ক্ষতি হবে না

শেষ কথাঃ ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার নিয়ম

ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভ করার নিয়ম জানা মানে হলো নিজের সময়, মানসিক শান্তি ও প্রাইভেসির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনে যেমন সুবিধা নিয়ে এসেছে, তেমনি অতিরিক্ত ব্যবহারে অনেক সময় চাপও তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে সাময়িক বিরতি নেওয়ার জন্য আইডি ডিএক্টিভ করা একটি নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান। এতে আপনার তথ্য সুরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজনে যেকোনো সময় আবার আগের মতো ফিরে আসা যায়। তাই নিজের প্রয়োজন বুঝে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Fahmida Rahman
Fahmida Rahman
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ইউকি ভিটার এডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।