শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এই সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সঠিক তথ্য জানা থাকলে আমরা চাইলে এই নিউমোনিয়া থেকে আমাদের বাচ্চাদেরকে অনেকটা রক্ষা করতে পারি।

শিশুর-নিউমোনিয়া-রোগের-লক্ষণ-ও-প্রতিকার
এই লেখায় আমরা দেখব কিভাবে শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার আমরা ধরতে পারবো এবং তার চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে পারি। এই ব্লগে খুব সহজ করে লেখা হলো শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি বুঝবেন কি কি কারনে নিউমোনিয়া হতে পারে এবং কিভাবে আমরা চিকিৎসা ব্যবস্থা নিব তা সব বিস্তারিত লেখা হয়েছে। 

পেজ সুচিপত্রঃ শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

শিশুর নিউমোনিয়া রোগ কি

শিশু নিউমুরিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার জানা জরুরী। য়া বলতে ফুসফুসে সৃষ্টি একটি সংক্রমণ জড়িত রোগকে বোঝায়। এটি ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস বা ছত্রাক এর দ্বারা হতে পারে। এর ফলে বায়ু থলেতে পুজে ভরে যায়। আর এটাই কাশি, শ্বাসকষ্্‌ জ্বর ও ক্লান্ত হওয়ার কারণ। পাঁচ বছরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া একটি গুরুতর রগ হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ এর তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ৭ লক্ষ ২৫ হাজার শিশু ডিউডিআই মারা যায়। যারা পাঁচ কিংবা পাঁচ বছরের নিচের বয়সী।

শিশুদের নিউমোনিয়া হওয়ার প্রধান কারণ

নিউমোনিয়া হওয়ার মূল কারণগুলো হতে পারে ব্যাকটেরিয়া অথবা ভাইরাস কিংবা একপ্রকার ছত্রাকের কারণেও নিউমোনিয়া হতে পারে। প্রধানত স্টেপটোকাস ডিউবোডিয়ে নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে নিউমোনিয়া হতে পারে। নিউমোনিয়া বাচ্চাদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ রোগ।  শিশুর নিউমোনিয়া হওয়ার কিছু কারণ নিচে ছোট করে বোঝানো হলোঃ

ব্যাকটেরিয়াঃ ব্যাকটেরিয়া সাধারণত শিশুদের নিউমোনিয়া হওয়ার একটি মূল কারণ। প্রধানত নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে নিউমোনিয়া হয়। 
ভাইরাসঃ ডিউরিয়া হওয়ার আরও একটি মূল কারণ হলো ভাইরাস। উল্লেখযোগ্য 
ছত্রাকঃ যদিও ছত্রাকের কারণে তেমন বেশি নিউমোনিয়া হয় না শিশুদের মধ্যে, কিন্তু যেসব শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা তারা দুর্বল তাদের ক্ষেত্রে ছত্রাকজনিত জীবাণু নিউমোনিয়া সৃষ্টি করে তাদের মধ্যে। 

পরিবেশঃ পরিবেশের কারণে নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে শিশুদের বিভিন্ন বায়ু দূষণ, কালো ধোঁয়্‌ সিগারেট এইসবের কারণেও নিউমোনিয়া হয়। 
অপুষ্টিঃ অপুষ্টি দুর্বল ও অপুষ্টি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রোগের সাথে সাথে নিউমোনিয়া হওয়ার শঙ্কা থাকে। 

কোন শিশুদের নিউমোনিয়ার ঝুকি বেশি

শিশু থেকে বয়স্ক সবারই নিউমোনিয়া হতে পারে। শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার মধ্যে  শিশুদের মধ্যে ৫ এবং তার কম বয়সের বাচ্চার সাধারণত নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এর চিকিৎসা না করা হলে এটা খুবই খারাপ রূপ ধারণ করতে পারে। মৃত্যুর বিশেষ কারণের মধ্যে নিউমোনিয়া একটি মূল কারণ। যেসব বাচ্চারা পুষ্ট না, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাশট, বুকের দুধ পায় না, প্রয়োজনীয় টিকা না দেওয়া থাকলে এইসবের অভাব যে শিশুর মধ্যে থাকে সেই শিশু গুলো নিউমোনিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। 

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের সাধারণ লক্ষণ

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এর ক্ষেত্রে আমাদের সাধারণ লক্ষণগুলো যেনে রাখা জরুরি। শিশুর নিউমোনিয়া রোগের সাধারণ লক্ষণ গুলো হলো 
  • কাশির সময় ব্যাথা
  • বুকে ব্যথা
  • দ্রুত শ্বাস নেওয়া
  • নিঃশ্বাস থেকে সা সা আওয়াজ বের হওয়া
  • শরীর ঠান্ডা হওয়া
  • ক্লান্ত
  • বমি হওয়া
  • জ্বর
  • ঠোট নিল হওয়া

নিউমোনিয়া শিশুর শ্বাসকষ্টের লক্ষণ

শিশুর নিউমনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এটির অনেকগুলো লক্ষণের মধ্যে শ্বাসকষ্ট একটি লক্ষণীয় লক্ষণ। নিউমনিয়ার শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলো হলো- বুক চাপ ধরা, নিঃশ্বাসে শবসশাসে। বুকে চাপ ধরে থাকার কারনে বুক থেকে সা সা আওয়াজ শুনা যায়। যার ফলে নিঃশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হই। শ্বাসকষ্টের সাথে আরও লক্ষণ আছে জেমনঃ থান্দা, জর, ঠোঁট নিল ইত্তাদি। উপড়ে লক্ষণগুলো বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া আছে।

শিশুর নিউমনিয়া রোগ নির্ণয়ের উপায়

ডাক্তাররা সাধারণত যেসব শিশুদের একাধারে কাশি জ্বর সর্দি থাকে তাদেরকে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দেওয়া শুরু করে এবং সেই শিশুদের মধ্যে বাকি নিউমোনিয়ার লক্ষণ গুলো পরীক্ষা করতে লাগে। বাইরে থেকে মূল উপায় হল বাচ্চার শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হচ্ছে কিনা। এইসবের সাথে রক্ত পরীক্ষা বুকের এক্সরে করতে বলে। 

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের ঘরোয়া প্রতিকার

নিউমোনিয়া রোগ অত্যন্ত গুরুতর একটি রোগ বাচ্চাদের জন্য। এটি একটি বাচ্চার জীবনও নিয়ে নেয়।তাই নিউমোনিয়ার কোন লক্ষণ ধরা পড়লে দ্রুত তার ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ঘরোয়া প্রতিকার বলতে সাধারণত খুব শুরুতে বাচ্চার হালকা সর্দি জ্বর হলে নাপা খাওয়ানো, মাথায় ভেজা কাপড় দিয়ে রাখা, ইত্যাদি বাসায় করা যায় তবে ডাক্তারের পরামর্শ অবশ্যই নেওয়া দরকার। নিউমোনিয়া হওয়ার আগে যেসব কারণে নিউমোনিয়া হয় সেসব থেকে বাচ্চাকে রক্ষা করার দায়িত্ব বড়দের। 

কখন শিশুকে ডাক্তারের কাছে নেওয়া জরুরী

নিউমোনিয়া সৃষ্টিকারী জীবাণুগুলো অন্যান্য তরল পদার্থের মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়তে পারে তাই একটি শিশুকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের কাছে দাওয়াত জরুরী। সাধারণ লক্ষণগুলো এক দুইটা দেখা গেলে ডাক্তারের কাছে দেওয়া দরকার। হালকা সর্দি জ্বর কিংবা বুক ব্যথা থাকলে প্রথমে বাসায় নাপা খেয়ে দেখা দরকার।

নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এই বিষয়ে মাথায় রাখা দরকার। বাচ্চার অতিরিক্ত জ্বর যেমন ১০২°F জ্বর থাকলে বিষয়টা দেখা দরকার। তারপর যদি শ্বাসকষ্ট হয় বিশ্বাস নিতে কষ্ট হয় বুক চেপে ধরে সেই সময় দেরি করা যাবে না। ঠোঁট যদি ডিল হয়ে যায় কিংবা অনেক ক্লান্ত এইসব লক্ষণগুলো দেখা দিলে সাথে সাথে দাক্তারের কাছে নেওয়া জরুরি। যেহেতু নিউমোনিয়া ভয়াবহ তাই যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে ডাক্তারের কাছে দেওয়া জরুরী এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া জরুরী।

নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর যত্ন নেওয়ার নিয়ম

শিশুটিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার এ ব্যাপারে দেখতে গেলে বাচ্চার জত্নর প্রয়োজন। ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া প্রায় এন্টিবায়োটিক এর একটি কোর্স দিয়ে চিকিৎসা হয়। বেশিরভাগ ভাইরাল নিউমোনিয়া নিজেই সেরে যায় কারণ এগুলোর কোনো চিকিৎসা নেই। ছত্রাকজনক নিউমোনিয়া ক্ষেত্রে চিকিৎসা মধ্যে অ্যান্টি ফাংগাল ওষুধ থাকে। 

ডিউবরিয়া আক্রান্ত শিশুর যত্ন নিতে হবে খুব ভালো করে। ডাক্তারের দেওয়া ওষুধ গুলো নিয়মিত খাওয়াতে হবে সময় মত। এন্টিবায়োটিকসের কোর্স সম্পূর্ণ শেষ করতে হবে। যেহেতু নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হবে তাই করো পারি বাসবো তে নিঃশ্বাস নিতে হবে। ধোয়ামুক্ত পরিবেশে রাখা লাগবে। 

শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধের উপায়

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার- নিউমোনিয়া প্রতিরধের জন্য বিভিন্ন বিসয় মাথাই রাখা লাগবে। টিকা দেওয়া, ভালো খাবার খাওানো, নানা ধরনের অস্বাস্থ্যকর যায়গা থেকে দূরে রাখা জরুরি। 

নিউমোনিয়ার জন্য এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য বিশেষ টিকা রয়েছে। সেইসব টিকা সবাই মত শিশুদেরকে দিয়ে দেওয়া জরুরি। টিকা দেওয়ার বিষয় নিয়ে ডাক্তারের সাথে ভালো করে পরামর্শ করে দেওয়া ভালো। 
দুই বছরের কম এবং দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য টিকা দেওয়া খুব জরুরী কারণ এই সময়টি নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে খুব বেশি। তাই বাচ্চার টিকা নিশ্চিত করুন আপনার বাচ্চাকে সুস্থ রাখার জন্য। 

নিয়মিত হাত ধোয়া নিশ্চিত করুন। সকল প্রকার কোলাহল যুক্ত পরিবেশ থেকে দূরে রাখুন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বজায় রাখুন। ধুলা বালু, বায়ু দূষণ, সিগারেট, কালো ধোঁয়া এসব পরিবেশ থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখুন। এগুলোর কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়।

বাচ্চার খাবার স্বাস্থ্যকর রাখুন। বিভিন্ন শাক-সবজি খাওয়াতে হবে। এর ফলে বাচ্চার ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো থাকবে। ইমিউনিটি সিস্টাম দুর্বল থাকলেও দ্রুত সুস্থ হতে পারেনা। তাই এইসব বিষয়ও খেয়াল রাখতে হবে।

শেষ কথাঃ শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

শিশুর নিউমোনিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে শিশুকে সময়মত চিকিৎসা দেওয়া সহজ হয়ে উঠে। একটু লক্ষণ ধরা পড়লে অবহেলিত না করে চিকিৎসা নেওা শুরু করতে হবে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Fahmida Rahman
Fahmida Rahman
একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ইউকি ভিটার এডমিন। তিনি অনলাইন ইনকাম, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সফল হতে সহায়তা করে যাচ্ছেন।