লাইলাতুল কদর কি এবং এর ফজিলত সম্পর্কে জানুন
লাইলাতুল কদর কি এবং কেন এটা হাজার বছর চেয়ে উত্তম জানুন সহজ ভাষায়। এই পবিত্র
রাতের ফজিলত, কোরআনের বর্ণনা ও বিশেষ আমলের কথা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। লাইলাতুল
কদরের লক্ষ্য দোয়া ও করণীয় জানতে পড়ুন পুরো আর্টিকেলটি।
তে লাইলাতুল কদর কদরের ব্যাপারে জান আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
তাই এই বরকতের রাতে কিভাবে আল্লাহর রহমত লাভ করবে জানুন এখনই।
পেজ সূচিপত্রঃ লাইলাতুল কদর কি এবং এর ফজিলত সম্পর্কে জানুন
- লাইলাতুল কদর কি?
- কেন লাইলাতুল কদর এত গুরুত্বপূর্ণ
- কুরআনে লাইলাতুল কদরের বর্ণনা
- লাইলাতুল কদরের ফজিলত
- এই রাতে কি কি বিশেষ ঘটনা ঘটেছে
- লাইলাতুল কদর কোন রাতে হয়
- লাইলাতুল কদরের লক্ষণ
- এই রাতে কি কি আমল করা উচিত
- লাইলাতুল কদরের দুয়া
- আমাদের জীবনে এই রাতের শিক্ষা
লাইলাতুল কদর কি
লাইলাতুল কদর কে শবে কদর ও বলা হয়। শব মানে রাত বা রজনি। আর কদর মানে সম্মান,
মরজাদা, ভাগ্য ইত্যাদি। তাই এই রাতটি মুসলমানদের জন্য ভাগ্য রজনী হিসেবে
সম্মানিত। শবে কদর অর্থ হল মর্যাদাপূর্ণ রাত বা ভাগ্য রজনী। শবে কদরের আরবি হলো
লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত। লাইলাতুল কদরের রাত হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে
উত্তম রাত।
কেন লাইলাতুল কদর এত গুরুত্বপূর্ণ
এই রাতে সাধারণত মানুষের তাকদির নির্ধারণ হয়। তাই এই রাত শুধু ইবাদাতের জন্য নয়
এটি তাকদির নির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি রাত যে রাতে ইবাদাত করা
হাজার মাশের চেয়েও উত্তম। এই রাতে আল্লাহ তাআলা পুরা কুরআন লাওহে মাহফুজা থেকে
প্রথম আসমানে নাজিল করেন। এই রাতে অসংখ্য ফেরেস্তা পৃথিবীতে নেমে আসে এবং
তারা তখন দুনিয়ার কল্যাণ, বরকত ও রহমত বর্ষণ করতে থাকে। এই রাতের ফাজিলত বর্ণনা
করে এ রাতেই একটি পুরনাঙ্গ সূরা নাযিল হয়। যার নাম সূরা কদর। এই রাতে নফল নামাজ
আদায় করলে মুমিন্দের অতীতের সগিরা গুনাহ মাফ হয়ে যাই।
কুরআনে লাইলাতুল কদরের বর্ণনা
আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
"নিশ্চয়ই আমি এটি নাযিল করেছি কদরের রাতে
আর আপনি কি জানেন কদরের রাত কি?
কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম"
(সূরা আল কদরঃ ১-৩)
এই আয়াত গুলো প্রমাণ করে যে এই রাত কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং বরকতময়।
লাইলাতুল কদরের ফযিলত
- এই রাত হাজার চেয়ে উত্তম
- ফেরেশতারা পৃথিবীতে নেমে আসেন
- আল্লাহর রহমতের ক্ষমা বর্ষিত হয়
- এই রাতে করা দোয়া কবুল হয়
- গুনা মাফের সুবর্ণ সুযোগ
এই রাতে কি কি বিশেষ ঘটনা ঘটেছে
- কুরআন প্রথম বার নাযিল হয় লাওহে মাহফুজে
- ফেরেশতা জিব্রাইল আলাই সাল্লাম পৃথিবীতে অবতরণ করে
- মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়
- আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়
লাইলাতুল কদর কোন রাতে হয়
- এই রাত্রি রমজান মাসে। আর এই রাতটি কেয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে।
- এ রাতটি রমজানের শেষ দশকে হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম বলেছেনঃ " রমজানের শেষ ১০ দিনে তোমরা কদরের রাত তালাশ কর।" (বুখারীঃ ২০২০; মুসলিমঃ ১১৬৯)
- আর এটি রমজানের বেজো রাতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেনঃ "তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত খোঁজ করো"(বুখারীঃ ২০১৭)
অনেক জায়গায় বলা আছে যে এই রাত ২৭ এর রাতে হয় কিন্তু সর্বশেষ মতামত হল
মহামান্বিত এই রজনীটি স্থানান্তরশীল। প্রতিবছর একই তারিখ বা একই
রজনীতে তা হয় না এবং শুধুমাত্র ২৭ তারিখে এই রাতটি আসবে তা নির্ধারিত নয়।
আল্লাহর হেকমত ও তাঁর ইচ্ছায় কোনো বছর তা ২৫ তারিখে, ২৩ তারিখ, ২১ তারিখে আবার
কত বছর ২৯ তারিখেও হয়ে থাকে।
লাইলাতুল কদরের লক্ষণ
এই রাতের কিছু আলামত হাদিসে বর্ণিত আছে সেগুলো হলঃ
- রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না
- গরম বা শীতে তীব্রতা থাকবেনা
- মৃদু মন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে
- সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্ত বোধ করবে
- কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিও দিতে পারে
- ওই রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে
- সকালে হালকা হালকা সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। (সহিহ ইবনু খুজাইমাঃ ২১৯০; বুখারীঃ ২০২১; মুসলিমঃ৭৬২)
এই রাতে কি কি আমল করা উচিত
- প্রথম ২০ রাত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম পূর্ণ রাত জাগরণ করতেন না। কিছু সমই ইবাদাত করতেন। আর কিছু অংশ ঘুমিয়ে কাটাতেন।
- সে সময় কোরআন তেলাওয়াত সালাত আদায় সদকা প্রদান জিকির দোয়া আত্মসমালোচনা ও তওবা করে কাটাতেন। আল্লাহর রহমতের আশা ও তার গজবের ভয়ভীতি নিয়ে সম্পূর্ণ ইবাদতে মশগুল থাকতেন।
- হাদিসে এসেছে সে সময় তিনি শক্ত করে তার আঙ্গুল দ্বারা কোমর বেঁধে নিত, এর অর্থ হল রাতগুলোতে।তার সমস্ত শ্রম ও শুধু ইবাদতের মধ্যেই নিমগ্ন ছিল নিজে যেমন অনিদ্রায় কাটাতেন তার স্ত্রীদেরকেও তখন জাগিয়ে দিত ইবাদত করার জন্য।
- কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয় না যায় সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম শেষ দশ দিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন (মুস্লিমঃ১১৬৭)
লাইলাতুল কদরের দোয়া
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু জিজ্ঞেস করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু সাল্লাম
বলেন
"আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন, তুহিব্বুল আফ'ওউয়া, ফা'ফু আন্নি"
অর্থঃ " হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন- আমাকে ক্ষমা করেন"
আমাদের জীবনে এই রাতে শিক্ষা
সব কিছু পরে আমরা বুঝতে পারলাম যে এই রাত আমাদের শেখায়-
- আল্লাহর কাছে ফিরে আসা
- নিজেকে পরিবর্তন করা
- অন্যকে ক্ষমা করা
- নিজের আমল সংশোধন করা।
শেষ কথাঃ লাইলাতুল কদর কি এবং এর ফজিলত সম্পর্কে জানুন
লাইলাতুল কদর শুধু একটি রাত নয় এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশাল রহমতের উপহার। যে
ব্যক্তি এই রাতকে গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত করে আল্লাহ তার অতীত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
তাই আমাদের উচিত এই রাতকে জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url